#ঢাকা #রাঙ্গামাটি #কাপ্তাই #চট্টগ্রাম #পতেংগা #কুমিল্লা #ঢাকা
লেখার ইচ্ছে না থাকলেও অভিজ্ঞতা শেয়ারের লোভে লিখতে বস্ লাম ।
৩০০ টাকার আলু ভর্তা ডাল ভাতের কক্সবাজার এভোয়েড করে,এই ছুটিতে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে, আমার এক্সিও হাইব্রিড ২০১৩ গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম ঢাকা থেকে রাংগামাটি।
এই ডিসেম্বর মাসে কোন ভাবেই বাইরে যাবার অবস্থা ছিলো না । প্রজেক্ট ইমপ্লেমেন্টেশন এর খাড়া আর নতুন চাকরি , চিন্তাও কত্রতে পারি না ।
মনের মাঝে লুকিয়ে রাখা ইচ্ছেটাকে আল্লাহপাক মনে হয় কবুল করে নিয়েছেন তাই
, অমিক্রন করনার কারনে বিদেশী ইমপ্লিমেন্তেশন টীমের ঢাকা সফর ডিলেয়েড । ১৬,১৭,১৮
ডিসেম্নব্র এর ছুটির সাথে ২ দিন ছুটি নিয়ে প্ল্যান করতে শুরু করলাম রাংগামাটি
ট্যুর এর
সেই প্রায় ২০ বছর আগে গিয়েছি , এবার ইচ্ছে গড়ি ড্রাইভ করে যাবো।
পাহাড়ে গাড়ি
চালানোর অভিজ্ঞতা , মালায়শিয়াতে তাও তো ১০ বছর আগে হবে।
রাস্তা কোথায় কি অবস্থা নতুন রাস্তা সহজে কিভাবে যাবো ,কোথায় থাকবো, খাবার কি হবে, ফ্রেশ্রুম কোথায় চলনশই, নিরাপত্তা, রেস্ট্রিকশন কি আছে, টাকা পয়সা , বিস্ত্রাম কত চিন্তা ।
একটা গ্রুপ ট্যুর হলে দারুন হতো কিন্তু সবাই কেমন ছাড়া ছাড়া
।
গ্রুপ গুলাতে রাস্তার রিভিউ খুজতে থাকলাম , এদেশ তেমন কেউ রাস্তার রিভিউ দেয় না।
সবাই খুব মুখ চোরা আমাদের এখানে ।
বাইক রাইডার রা দারুন সব রিভিউ দেয় ,কিন্তু রাইডারদের স্বাধিনতা অনেক ,গাড়িওয়ালারা রিভিউ খুব কম দেন।
২ /১ জনে রিভিউ দেখে
আইডিয়া নিয়ে প্ল্যান ফাইনাল করেছি। বাসা ছেড়ে যেতে অনেক প্যারা অনেক কিছু সাপোর্ট রেখে যেতে
হয়।
সবকিছু দেখে ফেসে গেলাম হোটেল বুকিং এ । কোন সিট খাইলি নাই এই ব্ল্যাক আঊট পিরিওড এ ।
ক্রিতজ্ঞতা জানানোর লিস্ত অনেক বড়। ট্যুর প্ল্যান এর স্ট্যাটাস দেখে তারেক ভাই ঝাপিয়ে পড়লেন সাহস দিতে আর হোটেল বুকিং এ সাহায্যে।
হোটেল সুফিয়া তে ২ তা রুম পাওয়া যাবে ,কিন্তু পুরানো আর ছোট । যদিও
ট্যুর এ রুমের সাইজ কোন ব্যাপার না , পরিস্কার আর ভালো বাথরুম ই যথেস্ট । যার কাছে বুকিং দিচ্ছি সে নিজেই বলছে যে ভাই একটু ভেবে তারপর বুকিং দেন ,পরা আমাকে কিছু বলতে পারবেন না।
না না লিঙ্শেক এ খুজতে থাকি রুম ।কিন্তু বড্ড কম সময় এই লম্বা ছুটির বুকিং এর। করনার জন্য গত দুই বছর মানুষ ঘরে আটকা ।শেষ পর্্যন্ত দুলাভাই এর কাছে আবদার করে দেখি , রুমের ব্যাবস্থা করা যায় কি
না। উনি উনার সব লিঙ্ক ব্যাবহার করে , রাংগামাটি আর চট্টগ্রামে সরকারি রেস্ট হাউজ
ব্যাবস্থা করে দিলেন । ধন্যবাদ দিলে আসলে উনাকে কম করা হবে । এই ব্যাবস্থা না হলে
্যেতেই পারতাম কিনা সন্দেহ আছে ।
১৬ তারিখ সকাল ৭ টায় রওনা দিবো । রাস্তায় যে চাপ, ১৫ তারিখ রাতে রোনা দিলেও ফলাফল এক ই হতো। টার্মিনাল এলাকায় চাপের কারনে গাড়ী নিয়ে অফিস যাই নাই,কেনোনা এই দিন বাসায় ফিরতে পারা যায় না ।
বাসার সব ব্যাবস্থা করে , তালাচাবি মেরে বের হতে হতে প্রায় ৮ টা । পদে পদে বুঝতে পারছি যেহেতু বড় ছুটি রাস্তায় প্রচন্ড চাপ । বাসা থেকে যাত্রাবাড়ি মোড় পার হতেই হাত থেকে ১ ঘন্টা নাই।
এর পর নায়াঙ্সাগঞ্ইজ এর কাছে সাইনবোর্ড এলাকা , কাচপুর , মদনপুর ,মোগরা পাড়া পাড়ি দিয়ে দাউদকান্দি ব্রীজের টোল হাউজে ্যেতে আরো ৩ ঘন্টা নাই।
বেলা ১২ টা বেজে গেছে হাইওয়ের ফ্রি রাস্তার মজা পেতে পেতেই।
যেতে যেতে আবার কুমিল্লার চান্দিনার কাছে লক । এক্সিডেন্ট হয়েছে তাই রাস্তা বন্ধ।
দূরের রাতসা ,অচেনা পথ খুব দীর্ঘ লাগে । রাস্তায় নেমে কিছিক্ষন হাটাহাটি সেরে শরিরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করার চেস্টা। মাথায় খেলছে বেলা ৪ টা নাগাদ চট্টগ্রাম এর ভাটিয়ারি পৌছাতে হবে।এই রাস্তায় আমার আগমন প্রায় ৮ বছর পর ,অনেক পরিবর্তন চারিদিকে, রাস্তা অনেক চওড়া আর নিয়ন্ত্রিত। পথে হাইওয়ে পুলিশ আছে ।
ছেলে পাশ থেকে কো পাইলটের দায়িত্বে,
মেয়ে গুগুল ম্যাপে নেভিগেটর এর দায়িত্বে ।
রিফ্লারেসমেন্ট আর লাঞ্চ করতে নাম্লাম তাজমহল হোটেলে কুমিল্লা। ১৫ মিনিটের ব্রেক এ সব কাজ শেষ করে আবার ছুটে চলা।
বেলা তখন প্রায় ৩ টা । যেহেতু সরাসরি রাঙ্গামাটি যাবো সন্ধ্যার আগে রাংগামাটি তে ঢুক্তে চাচ্ছি। হবে বলে মনে হচ্ছে না। রাস্তায় লম্বা ছুটির চাপ প্রতিটা মোড়ে। সবাই বেড়াতেই যাচ্ছে তা নয় , বিয়ের বর যাত্রা যাচ্ছে, অনেকে মায়ের কাছে যাচ্ছে, ১৬ ডিসেম্বর এর প্রস্তুতির স্কুলের অনুস্টান, ৪ টার দিকে প্রধান্মন্ত্রী শপথ করাবেন সবাই কে তার চাপ প্রতিটা এলাকায়। বিজয় দিবসে সারাবাংলায় কি হয় তার একটা ভিসুয়াল ট্যুর হয়ে যাচ্ছে।
আগে যখন গিয়েছি জান্ তাম ৫ টার মধ্য রাঙ্গামাটি মিলিটারি চেক পোস্টে না গেলে কি যেতে দিবে কি কে জানে।
ফেনি ,মিরেস্বরাই ,কুমিরা পার হয়ে ভাটিয়ারি তে বি, এম, এর পাশের রাস্তা ধরলাম ।
বিকেল বেলায় এই রাস্তা খুব ই সুন্দর। এখানে সান্ সেট পয়েন্টে
দাড়াতে পারলে ভালো হতো কিন্তু তাড়ার কারনে ,বাদ দিলাম । হবে ইনশাল্লাহ পরে একবার। পাহাড়ি
রাস্তা অনেক সুন্দর , শুধু বেবি ট্যাক্সির জন্য একটু ধীরে যেতে হচ্ছে, এখাএ এসে বুঝলাম
তেল নেয়া উচিত , কেনোনা হাফ ট্যাঙ্ক হাতে রেখে এগুতে চাচ্ছি, কোথাত কি পাবো কে যানে
।
তেল নিতে গিয়ে জ্যাম এর জন্য অনেক সময় গ্যালো হাট হাজারিতে , ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ে থেকে নেয়া উচিত ছিল,সময় বাচতো। গুগুল বলছে এখন ও ২ /২ঃ৩০ ঘন্টা বাকি , এদিকে সাঝের আলো এসে গেছে ।
ব্রেক নেয় দরকার কিন্তু উত্তেজনা আর ,জ্যামে দেরি হয়ে
গেছে । রাস্তায় কয়েকজন কে জিজ্ঞাসা করে পথ কনফার্ম করে এগুতে থাকলাম , সব সময়
গুগুল কে অন্ধের মত বিশ্বাস করতে নেই।
সাথে থাকা শুকনা নাস্তা অনেক কাজে দিচ্ছে, নামতে হচ্ছে না। আমার জন্য চা খাওয়া
জরুরী তবু টেনে চলছি। এর পর রাউজান । এখানে রাস্তা বড় হচ্ছে কিন্তু পূড়োটাঈ নির্মানাধীন তাই ভাঙ্গাচুড়া আর
স্লো যেতে হচ্ছে।
পথে পথে ১৬ ডিসেম্বর এর অনুশঠান ।এই সুজগে বাংলার পথে পথে বাংলাদেশের ৫০ বর্ষ
পুর্তি দেখে গেলাম। স্কুলের মাঠে ,সরকারি মাঠে, নানা আয়োজন।
শুধু টিভি, রেডিও তে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে কিছু অনুস্টহান ছিলো । কি দুর্ভাগা জাতি নিজের গৌরব কেও উদজ্জাপন করতে পারে না , সব ভাত,কাপড় আর সুবিধা দিয়ে মাপে।
এই ৫০ বছরের আয়জন টাও এক পেশে হয়ে গেছে, এই মুক্তি্যুদ্ধটা ছিল জন ্যুদ্ধ কোন
এক পেশে লোকদের দ্বারা ছিন্তাই করার জন্য নয় । সবার কথাই বলা উচিত।
আজ থেকে কয়েক বছর পর মুক্তি্যোদ্ধাদের আমারা পাবো না, কি শিখবে আমাদের বাচ্চারা।
একটা শোষনমুক্ত। স্বাধীন মুক্ত মানুষের দেশ গড়ার জন্যি তো এতো চেস্টা ছিলো।
আমাদের পূর্ব পুরুষেরা তাদের সব কিছু দিয়েছিলেন আমাদের এই বর্ত মান কে সুন্দর করতে
।
রাউজান পাড়ি দিতে দিতেই সূর্্য গেছে পাটে, রাঙ্গামাটির রাবার বাগান এলাকায় যখন
পৌছলাম তখন সন্ধ্যা।
উচুনীচু রাস্তা খুব ভালো মানের কার্পেটিং আর মার্কিং করা, পথে পথে রোড সাইন প্রয়োজন মতো । আমি ইম্প্রেসসড। সেই ২০১০ এ লঙ্কাভি, মালায়শিয়াতে পাহাড়ি রাস্তা যেমন তার কাছাকাছি, শুধু রাস্তার বাতি আর সাইড রেল এর অভাব।
রাস্তার বাতি কিন্ত
সোলার দিয়ে করে দেয়া যেতো ।
বাংলাদেশ আর্মি কি ধন্যবাদ দেয়া উচিত ।
তবে অনেক ভালো , যখন শেষবার এসেছিলাম, সেই মর্টাল কম্বেট টাইপ রাস্তা না, রাস্তায়
প্রচুর বেবিট্যাক্সি আর বাস। পিকনিক পার্টির ফিরে ্যাওয়া বলছে ্যে মিলিটারি
রেস্ট্রিকশন মনে হয় নাই।
পথে বেশকিছু বাজার ও আছে ,দোকান মসজিদ ,বাড়িঘর দেখে বোঝা যায় এই রাস্তা অনেক বেশি চলমান । খাড়া ঢাল আর খাড়া বেয়ে বেয়ে আলাদা মজায় ড্রাইভিং।
আসলে এ পথে একটু হুশ করে , অন্যকে সম্মান করে বুঝে চললেই চলবে।
যায়গা মত হর্ন দিতে হয় আরে গতি নিয়ন্ত্রন করে চললেই টেনশন নাই।
এই রাস্তায় কোন গর্ত নাই, কিছু যায়গায় সামান্য কাজ চলে। রাস্তা যে রেগুলের মেইন্টেনেন্স এ থকে তা বোঝা যায়।
অন্য এলাকার ড্রাইভার রা সহজেই আসতে পারবেন ।
তবে বেয়াদ্দপ লোকের এই রাস্তায়
না আসাই কাম্য। বেশ কিছু আইটেম পেয়েছি রাস্তায়। এরা নিজেদেরকে কি যে মনে করে?
পথে চেকপোস্টে শুধু কনফার্ম করলো আমাদের পরিচয় আর সাথে বিদেশী কেঊ আছেন কি না । ফ্যামিলি দেখে আর্মি গ্যারিসন এও ছেড়ে দিলো সহজেই। নিরাপত্তা পোস্ট গুলো আলাদা একটা আস্থা দেয় ।
বাকি পথ রাতের বেলা দেখাএ আসেপাশের কিছু দেখা গেলো না। হেডলাইটের আলোয় যতটুকূ দেখা,
খাদ গুলা পরিবারের কেঊ বুঝতে পারে নাই। ফেরার পথে অবশ্য দেখে নিয়েছে ।
এই পথে বার বার আসা যায় ।
প্রথম এসেছিলাম রাংগামাটিতে সেই ১৯৯০ তে, ম্যাট্রিক
পরিক্ষার পর খালার কাছে বেড়াতে চট্টগ্রাম এসেছিলাম । তখন খালু ফরেস্টের চিফ
কন্সারভেটর । আমাদের কে নিয়ে রাঙ্গামাটি ঘুরিয়া নিয়ে গিয়েছিলেন । সে সময় জীপে এসেছিলাম
,পাহাড় আর মেঘের খেলায় আমি মুগ্ধ । তখন ক্যামেরায় ৩৬ স্ন্যাপ এর ফিল্ম থাক্তো । বেশিরভাগ
,আকাশ ,মেঘ আর পাহাড়ের ছবি তুলেই শেষ করেছিলাম । নিজেদের ছবি তোলাই হয় নাই।
এর পর এসেছিলাম ফ্রেন্ড্ রা মিলে , ১৯৯৭ হবে হয়তো । তারপর ২০০১ এ বৌ নিয়ে ২
দিনের জন্য ।
আবার তার ও ২০ বছর পর বৌ বাচ্চাদের কে নিয়ে। জীবন চলমান ।
নাএই বারের লেখায় কবিতা দেবার ইচ্ছে নেই
রাত ৭ঃ৩০ এর দিকে আমারা বন্ রুপা এলাকায় আমাদের সেই রেস্ট হাউজে পৌছে গেলাম।
অনেক হোটেল হয়েছে এখানে , সব টুরিস্ট এ ভরা। হোটেলের সামনে প্রচুর গাড়ি দেখে বোঝা
্যায় ।
এক ই রকম ছিমছাম আছে রাংগামাটি , চারিদিকে আলোক আয়োজন বিজয়দিবস উপলক্ষে ।
আমাদের হাতে সময় কম তাই বোট বুকিং এর জন্য কেয়ারটেকার এর সাথে ্যোগঅ্যাোগ করে
একটা ভালো পথ বের হলো। এই টব্ল্যাক আউটের কারেম্নে বোট ভাড়া দিগুন । কি আর করা , শুভলং
পর্যন্ত বোট ট্রাভেল না করলে তো মজাই নাই।
রাতের খাবারের জন্য বনরুপা এলাকার কুটুম বাড়ি রেস্টুরেন্ট ট্রাই করতে গেলাম, ভালো হবার কথা। অভিজ্ঞতা ভালো । রান্না এমং বিল দুটোই রিজনেবল ।
অনেক ট্যুরিস্ট তাই যায়গা পাওয়া একটু অপেক্ষার
ব্যাপার ।
কিছু গাড়ি বিষয়ক আপডেট দিয়ে রাখি । অন্যদের সুবিধা যদি হয়
সেখানে আসেপাশে সব স্পট এই গাড়িতেই গিয়েছি।এর পর রাংগামাটি থেকে ঘাগরা হয়ে কাপ্তাই। কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা হয়ে ঢাকা। ৭৩৭ কিলো ড্রাইভ এর ট্যূর। আমার গাড়িতে বাটি লাগাই নাই। কোথাও বাধে নাই। যাবার আগে সাম্নের দুই চাকা ১৯৫,৬৫,১৫ নতুন লাগিয়েছিলাম,কারন ক্ষয়ে গেছিলো আর চায়না টায়ার এর বয়স সাড়ে ৩ বছর। আর তেমন কিছু করা হয়নি। পরিবারের আমরা ৪ জন আর ফুল লোডের লাগেজ নিয়ে এভারেজ ২০ কিলোমিটার / লিটার
No comments:
Post a Comment